মেনু নির্বাচন করুন

পূর্ববর্তী মামলার রায়

পূর্ববর্তী মামলার রায় দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

বাদী:- শামীমা আকতার,পিতা-মো.আলী,সাং-ডাবুয়া (আমান আলী সিকদার বাড়ী),উপজেলা-রাউজান,জেলা-চট্টগ্রাম।

 

বিবাদী :- ১.আমান উলস্নাহ,২.মো.ফোরকান,সর্বপিতা-মৃত নুরম্নল আলম প্রকাশ আব্দুল মুনাফ,৩.মো.তোহা,পিতা-মো.শফি,৪.মো.আমির,পিতা-মৃত ওলি মিয়া,৫.মো.মাহাবু ,পিতা-মৃত কালা মিয়া,৬.মো.শাহ আলম,পিতা-মৃত আব্দুল ছোবহান,সাং-ডাবুয়া,উপজেলা-রাউজান,জেলা-চট্টগ্রাম।

 

২০/০৩/২০১৪

অদ্য ২০/০৩/২০১৪ ইং মামলার মুল নথি সংশিস্নষ্ট রাউজান থানার মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছে।মাননীয় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাম আদালত গঠনপূর্বক দ্রম্নত মামলা নিষ্পত্তির লক্ষে ০৫/০৪/২০১৪ ইং উভয় পক্ষকে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হউক।

 

০৫/০৪/২০১৪

অদ্য ০৫/০৪/২০১৪ ইং অদ্য বাদীনি ও বিবাদীগণ হাজির আছেন।গ্রাম আদালত গঠন কল্পে বাদীনি নিমণলিখিত প্রতিনীধিগণ নিয়োগ দেন।১.জনাব এস.এম এনামুল হক,ইউ.পি সদস্য ২ নং ওয়ার্ড,২.জনাব সাইফুল হক চৌধুরী(লাভলু),পিতা-মৃত মোজাহেরম্নল হক চৌধুরী, এবং বিবাদী নিমণলিখিত প্রতিনীধিগণ নিয়োগ দেন।১.জনাবা ফেরদৌস আকতার,ইউ,পি সদস্যা ১, ২ ও ৩  নং ওয়ার্ড.২.মো.জাগির হোসেন,পিতা-মৃত বদিউর রহমান এবং উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মো.মোজাহিদ উদ্দিন চৌধুরীকে  গ্রাম আদালতের সভাপতি করে গ্রাম আদালত গঠন করা হল।আগামী ১৯/০৪/২০১৪ ইং তারিখে শুনানীর দিন ধার্য্য করা হল।নির্ধারিত তারিখে উভয় পক্ষকে তাহাদের মনোনীত প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্বাক্ষরসহ হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া গেল।

 

১৯/০৪/২০১৪

অদ্য ১৯/০৪/২০১৪ ইং তারিখ বাদী ও বিবাদী উপস্থিত আছেন কিন্তুু বাদীনির প্রতিনিধি জনাব মো.সাইফুল হক চৌধুরী উপস্থিত না থাকায় শুনানী করা হয় নাই।পরবর্তী শুনানীর তারিখ ০৩/০৫/২০১৪ ইং নির্ধারন করা হয়।

 

০৩/০৫/২০১৪

অদ্য ০৩/০৫/২০১৪ ইং তারিখ বাদীনি অনুপস্থিত,বাদীনির প্রতিনিধি ইউ.পি সদস্য জনাব এস.এম এনামুল হক উপস্থিত আছেন।বিবাদীগণ ও তাহাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত আছেন।বাদীনীর ১০ টা ০৯ ঘটিকায় ০১৮১৮১৬২৫৪৪ নম্বর মোবাইল ফোন নং থেকে তাহার প্রতিনিধিকে জানান যে,তাহার মায়ের ডায়াবেটিস বেড়ে  গিয়েছে বিধায় অদ্য শুনানীতে উপস্থিত হতে অপারগ।এবং তাহার প্রতিনিধি জনাব এস.এম এনামুল হক বাদীনিকে আবার শুনানীর জন্য  অনুরোধ করলে আগামী ০৭/০৫/২০১৪ ইং তারিখ শুনানীর দিন ধার্য করা হল।

 

০৭/০৫/২০১৪

অদ্য বাদীনি ও তাহার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিবাদীগণ ও তাহাদের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত আছেন।চেয়ারম্যান সাহেবের অনুমতিক্রমে মামলার কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়।বাদীনী ও বিবাদীগন থেকে তাহাদের মৌখিক জবানবন্দী গ্রহন করা হয়।আগামী ১৮/০৫/২০১৪ ইং তারিখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার জন্য সিদ্ধান্তগৃহীত হয়।

 

১৮/০৫/২০১৪

অদ্য বাদীনি ও বিবাদীগণ এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিগনসহ ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।পরিদর্শনকালে দেখা যায় যে,বিগত ১৫/০৯/২০১১ ইং তারিখের অত্র ইউনিয়ন পরিষদের পরার্মশ মোতাবেক বিবাদীর জায়গার পার্শ্বে সরকারীভাবে রেকর্ডকৃত একটি রাসত্মা বিলীন হয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ মো.লোকমান গংকে উক্ত রাসত্মা সংস্কার করে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।উক্ত রাসত্মা সংস্কার করতে গেলে বাদীনি বাধা দিলে উক্ত ঘটনার সূত্রপাত হয়।পরবর্তী শুনানীর দিন ৩১/০৫/২০১৪ ইং তারিখ নির্ধারন করা হয়।

 

৩১/০৫/২০১৪

অদ্য বাদীনি ,তাহার প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্বাক্ষীগন উপস্থিত আছেন।বিবাদীগণও তাহাদের প্রতিনিধিবৃন্দ হাজির আছেন।বাদী ,বিবাদীগণ এবং তাহাদের স্বাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহন করা হল।আগামী ০৯/০৬/২০১৪ ইং তারিখ আদেশের জন্য ধার্য্য করা হল।

 

পর্যালোচনা

বিবাদীগন কর্তৃক তাহাদের দাবীর পক্ষে উপাস্থাপিত দলিলাদি পর্যালোচনা করে দেখা  যায় যে,বাদীনীর পিতা মো.আলী কর্তক নালিশী জায়গা রেজিষ্ট্রি কবলা নং ৩৮৪৩,তাং ০৩/০৭/১৯৭৮ মূলে ৬ (ছয়)শতক জায়গা ১.ইসলাম খাতুন,২.নজির আহমদ এর নিকট বিক্রয় করেন।উক্ত ইসলাম খাতুন  ও নজির আহমদ বিগত ২৮/০৬/১৯৮৬ ইং তারিখে ৩৪২৮ নং রেজিষ্ট্রি কবলা মুলে আর.এস খতিয়ান নং - ৪৬৯৫,আর.এস দাগ নং- ২২৫০৩ অনুরম্নপ বি.এস খতিয়ান নং - ৩৮৭২,বি.এস দাগ নং - ২৩৮৯৩ মূলে ১.মো.লোকমান ২.মো.আমান উলস্নাহ,৩.মো.ফোরকান,সর্বপিতা-মৃত নুরম্নল আলম প্রকাশ আব্দুল মুনাফ এর নিকট বিক্রয় করেন।বিবাদীগন উক্ত জায়গা খরিদ করিয়া অদ্যাবদি ভোগ-দখলে স্বত্তবান আছেন।বাদীনী ও বিবাদীগনের ভিটা সংলগ্ন উত্তর পাশে ২২৫০১ ও ২২৫০২ নং দাগের একটি পূর্ব-পশ্চিম জনসাধারনের চলাচলের জন্য একটি রেকর্ডীয় রাসত্মা আছে।উক্ত রাসত্মা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাসত্মাসংলগ্ন পুকুরে বিলীন  হয়ে যায়।বিগত ১১/০৯/২০১১ ইং তারিখ বিবাদী লোকমানগং উক্ত  রাসত্মা সংস্কার করার জন্য  কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি আবেদন করেন।উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ রাসত্মাটি সংস্কার করার জন্য তাহাদেরকে পরামর্শ দেন।কিন্তু অনিবার্য কারন বশত তখন রাসত্মা সংস্কার করা সম্ভব হয় নাই।বাদীনির পিতা কর্তৃক বিক্রিত জায়গায় বাদিনী অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করিলে বিবাদীগন ইউনিয়ন পরিষদের শরনাপন্ন হয়ে একটি আবেদন দাখিল করেন।তাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিষদ সরেজমিনে নালিশি জায়গা পরিদর্শন করে বিবাদীগনের ভিটা সংলগ্ন উত্তর পাশে পরিত্যক্ত রাসত্মা সংস্কার করার জন্য লিখিতভাবে পরামর্শ দেন।পরিষদের পরামর্শক্রমে রাসত্মা সংস্কার করার প্রাক্কালে বাদিনী ও তাহার মাতা অন্যায়ভাবে বাধা প্রদান করিলে উপস্থিত বিবাদী ও সমাজের গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কথা কাটা-কাটি ও ঝগড়া হয়।ঝগড়ার এক পর্যায়ে বাদীনির  মাতা রোকেয়া বেগম ৬ নং বিবাদী মো.শাহ আলম প্রকাশ মুন্সী মিয়ার চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করিলে উভয় পক্ষ ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।উক্ত ঝগড়ায় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ আহত হয়।পরে সামাজিকভাবে উক্ত ঘটনা আপোষ মিমাংসা করে দেওয়া হয়।কিন্তু বাদিনী কিছু র্স্বাথান্বেষী মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বিবাদীগনের বিরম্নদ্ধে রাউজান থানার মামলা নং ৭(০৯),২০১২ দায়ের করে।বাদিনী নালিশী জায়গার স্বত্ত্ববান না হওয়া সত্তেও বিবাদগণকে হয়রানি করার জন্য এই পর্যমত্ম বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেন।এমতাবস্থায় বাদিনী কর্তৃক বিবাদীগনের বিরম্নদ্ধে দ:বি ১৪৩,৪৪৭,৩২৩ ধারায় আনিত অভিযোগ স্বাক্ষপ্রমানে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয় নাই।এবং দন্ডবিধি ৩২৩ ধারায় বিবাদীগনের বিরম্নদ্ধে আনিত অভিযোগের ব্যাপারে আদালত এই মর্মে সিদ্ধামেত্ম উপনীত হন যে,যেহেতু বাদিনীর মাতা রোকেয়া বেগম ইচ্ছাকৃতভাবে মরিচের গুড়া নিক্ষেপের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সূত্রপাত করায় বিবাদীগণও ঝগড়ায় লিপ্ত হন।উক্ত সমস্যার সামাজিকভাবে আপোষ মিমাংসা হওয়ায় আদালত পক্ষকে অহেতুক পরস্পরের বিরম্নদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থেকে হিংসা,বিদ্বেষ পরিহার করে সদপ্রতিবেশী সুলভ পরস্পর মিলেমিশে বসবাস করার নির্দেশ এবং পরিষদের বিগত ১৫/০৯/২০১১ ইং তারিখের রাসত্মা সংস্কার করার পরামর্শ বহাল রেখে ৪-১ ভোটে বাদীর অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হল।